দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫ কোটি!

১৬ মে, ২০২০ ২০:০৬  
আগামীকাল ১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস। দিবসটির আগেই ইন্টারনেট ব্যবহারে দশ কোটির মাইলফলক পেরিয়েছে বাংলাদেশ। এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে আরো মাস দেড়েক আগেই। এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র সর্বশেষ মাসিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যানে।  হিসাব বলছে, মার্চ শেষে দেশে মোট সক্রিয় সিমের সংখ্যা ছিলো ১৬ কোটি ৫৩ লাখ। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৯ কোটি ৫১ লাখ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেটের দখলে থাকা দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্রডব্যান্ডের প্রসার হয়েছে লক্ষণীয়ভাবে। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারিতে  একমাসের ব্যাবধানে মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার। কেবল মোবাইলেই নয়, কোভিড-১৯-এ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সতর্কতার পাশাপাশি উল্লেখ যোগ্য হারে বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের সংযোগ। ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে ৩১ দশমিক ১০ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ২৩ লাখ ৪১ হাজার সংযোগ। মোট সংযোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৮৪ হাজার।  বছরের শুরুতেও এই সংখ্যাটা ছিলো মাত্র ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার। ফেব্রুয়ারিতেও সংখ্যাটা ছিলো একই। অর্থাৎ বছরের প্রথম দুই মাসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নতুন সংযোগ যুক্ত হয়নি একটিও। অথচ লকডাউনে দেশ যখন স্বেচ্ছা ঘরবন্দিতে তখন অফিস, ব্যবসায়, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিনোদন সবই হয়ে পড়ে ইন্টারনেট নির্ভর। এক্ষেত্রে গতি আর সাশ্রয়ে গ্রাহকেরা ঝুঁকে পড়েন ব্রডব্যান্ডে। যার প্রভাব পড়েছে লাকডাইনের প্রথম ২৩ দিনের মধ্যেই। এ অবস্থাকে দুর্যোগেই ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেটের বন্ধুত্বতার শক্তি হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি মহাসচিব  ইমদাদুল হক বললেন, ব্রডব্যান্ডের সংযোগ  ৩১ দশমিক ১০ শতাংশ বাড়লেও এর ব্যবহারকারী বেড়েছে অন্তত  ৫ গুণ। কেননা, একটি বাসায় কেবল একটি সংযোগ কমপক্ষে ৫ জন ব্যবহার করেন। অফিস আর বাসা মিলালে একটি ব্রডব্যান্ড সংযোগ গড়ে অন্তত ৭ জন ব্যবহার করে থাকেন। তবে অফিসের হিসেব বাদ দিলেও লকডাউনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটির কম নয়।  আমাদের অভিভাবক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি'র কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং কয়েকটি বড় অপারেটর দ্বারা অনুচিত প্রতিযোগিতা রোধ করে এই বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।